আমরা একটু অভিজিত হই

avijit roy

যে ব্যাপারটা নিয়ে এতদিন ধরে সবাই এত তর্ক বিতর্ক করলো অবশেষে সেটার মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু আমি এখন পর্যন্ত একমাত্র হোস্ট ব্যতীত আর কাউকে প্রকাশ্যে চুম্বনের কোন ছবি দিতে দেখি নাই। তাও সেটা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে না। বরং এমন কোথাও যেখানে প্রকাশ্যে চুম্বনকে সহজাত হিসেবেই দেখা হয়। আমার ফ্রেন্ড লিস্ট এর ১২ জন সেই ইভেন্টে গোয়িং দিয়েছিলেন। এর মধ্যে যে ৪ জন দেশে নেই তাদের কথা যদি বাদ দেই বাকি ৮ জনের কাউকেই আমি আজ প্রকাশ্য চুম্বনের কোন ছবি দিতে দেখিনি। ফেসবুকে যদি ছবি নাও দেয়া হয় তবু বুঝা যায় আদতে তেমন কিছুই কেউ করেননি। কারণ যদি করতেন তাহলে সেটা নিয়ে যে লংকাকান্ড হতো তা এতক্ষণে কানে আসতো ঠিকই।

আমি আগেই বলেছিলাম যারা গোয়িং দিয়েছেন তারা কেউ যাবেন বলে আমার মনে হয় না। কারণ জানের মায়া সবার আছে। জানের মায়া আছে বলেই ঐ ইভেন্ট এর হোস্ট নিজেও দেশ ছেড়েছেন। জানের মায়া আছে বলেই তারা ইভেন্ট এর ডাক দিয়েছেন কিন্তু নিজেরা দেশে আসতে পারেননি। আমি বলছি না তারা দেশে এসে কোপ খেয়ে মরুক। কিন্তু কথাটা সত্য এটা আমাদের স্বীকার করতে হবে।

এখন কথা উঠতেই পারে এরা সবাই কি তাহলে জানতেন না যে এটা হবে না? যারা গোয়িং দিয়েছেন তারা কি জানতেন না তারা এটা করতে পারবেন কিনা। এরা সবাই যথেষ্ট বুদ্ধিমান মানুষ। তাই তারা সবাই এতটা অদূরদর্শী ছিলেন যে কিছু না বুঝেই একটা কাজ করেছেন এমনটা আমি ভাবতে নারাজ। বাংলাদেশে এখনো এই সময় আসেনি, বাঙলাদেশ এজন্য প্রস্তুত না এসব কথা আমি বলতে চাই না। প্রস্তুত না থাকলেও অনেক সময় ক্ষেত্র নিজেই প্রস্তুত করতে হয়। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে যা আমি নিজেই করতে পারি না কিংবা পারবো না সেটা আমি আরেকজনকে বলবো কেন? আমি নিজে যদি উদাহরণ হতে না পারি তাহলে আরেকজন এর সাথে এ নিয়ে তর্ক করে কি লাভ? আমি নিজে অপদার্থ, আমার সাহস নাই, আমি প্রগতিশীল না, আমার অনেক সীমাবদ্ধতা আমি মানি। কিন্তু আমি সত্যিকার অর্থেই খুব খুশি হতাম যদি ইভেন্টে গোয়িং দিয়েছেন এমন একজন অন্তত দেশে বসে এইটুকু করে সত্যি দেখাতে পারতেন। অন্তত জানতাম আপনাদের কথার সাথে কাজের মিল আছে, জানতাম নিজে না করে কেবল অন্যদের করেন না কেন? করেন না কেন? এসব বলার মধ্যেই আপনাদের কৃতিত্ব না।

এই ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলার কোন ইচ্ছে আমার ছিল না। কিন্তু এই অপরিণামদর্শী চিন্তা, তর্ক ও কর্মকান্ডের পর আজ যখন সবাই এ নিয়ে হাসাহাসি করছে তখন সেটা শুধু আপনাদের ঘর পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নেই, আমাদের দরজায়ও টোকা দিয়ে যাচ্ছে। আজ জিতে গেলে হয়তো জয়টা শুধু আপনাদের হতো আর আপনারা আমাদের একহাত দেখে নিতেন। কিন্তু আজ এই বিতর্কিত ইভেন্ট এর ব্যর্থতার পরে আপনাদের সাথে সাথে হার আমাদেরও। কারণ সব মতৈনক্যের পরেও আপনারা আমাদের সহযোদ্ধা আর আপনাদের জন্য আমাদেরও কথা শুনতে হয় বৈকি।

মানুষে মানুষে যে ভালবাসা, প্রেম তা শাশ্বত ও সুন্দর, সহজাত। চুম্বন সেই সহজাত ভালবাসার সহজাত প্রকাশ। কিন্তু মানুষের মাঝে না থেকে, মানুষকে না জেনে, না বুঝে ভালবাসার বাণী ছড়িয়ে দেয়া যায় না। অভিজিতদা’ এটা জানতেন। তিনি নাস্তিক হয়েও ভালবেসেছিলেন সব মানুষকে। মৃত্যু হুলিয়া মাথায় নিয়েও দেশকে ভালবেসে দেশে এসেছিলেন। মানুষ বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে এটা তিনি ভাবতে পারেননি বলেই একা চুপিসারে দেশ থেকে চলে না গিয়ে মানুষের সাথে মিশেছেন, মানুষের মাঝে গিয়েছেন আর শেষ পর্যন্ত খুন হয়েছেন।

মোল্লা পুরোহিতরা স্রষ্টাকে পাবার ছলে সৃষ্টি ভুলে থাকে। আর আমরা অভিজিত এর মতো হবার চেষ্টায় অভিজিতকেই ভুলে যাই। অনেক তো হলো, আমরা এবার একটু অভিজিতদার দিকে চোখ ফেরাই, আমরা একটু অভিজিত হই।

Add Comment

Required fields are marked *. Your email address will not be published.