কবিতা এবং সময়ের সমীকরণ

আনমনে যখন হাঁটতে থাকি, তখন

কত অজস্র কবিতা মনের মধ্যে ঘুরপাক খায়।

ক্লান্ত দেহে অটোরিক্সায় ফেরার পথে

আমি দিব্যি একের পর এক পংক্তি রচনা করে যাই।

অথচ ঘরে ফিরে কত অসংখ্যবার কলম হাতে বসেও

কবিতার একটি চরণও লিখতে পারি না!

 

একসময় ভালই তো লিখতাম

খুব ভাল নয়, তবে ভালই।

আমার কবিতা জুড়ে থাকত স্বপ্নের কথা,

থাকত অসীম ভালবাসার নিঃসীম বেদনার কথা;

আজ আমি কিছুই লিখতে পারি না।

মাথা খুঁড়ে মরে গেলেও একটি শব্দ মনে পড়ে না –

যাকে কবিতা বলা যায়।

 

আয়নায় নিজের চেহারা ঘুরেফিরে দেখি

না, এমন কোন পরিবর্তন হয়নি এই ক’বছরে যে –

কবিতা লিখা যাবে না

হাতের আঙুলের দিকে তাকাই,

প্রকৌশল বিদ্যার এত খুঁটিনাটি যে হাত অবাধে লিখে চলে;

সে অবলীলায় কবিতা লিখতে পারে না কেন?

 

তবে কি প্রেম?? না, তা কেন হবে?

প্রেম তো সেই শাশ্বত পৌরাণিক কাব্যের মতোই আছে আমার জীবনে।

তখন সে ছিল, এখন তুমি আছ।

তখন অপরিপক্ক ছিল, এখন গভীর হয়েছে।

কিন্তু প্রেম তো ছিল, কিন্তু প্রেম তো আছে।

 

তবে?

তবে কি শুধুই সময়??

যে আমাকে একবারও জিজ্ঞেস না করে –

আমার স্বপ্ন আর বেদনার কবিতাগুলোকে

অবহেলায় ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে কোন দূরের নীহারিকায়…

Add Comment

Required fields are marked *. Your email address will not be published.